Friday, 30 April 2021

Dooars Part - I

 ডুয়ার্স ভ্রমন - বক্সা , জয়ন্তি , চিলাপাতা

শুভাশিস দত্ত

 Email: sduttamail@gmail.com
 Mobile & Whasapp : 9434110862

© SUBHASIS DUTTA


   এই লকডাউনের সময় সবাই প্রায় এক বছর গৃহবন্ধী ছিলাম তারপর আবার কোরোনার দ্বিতীয় ঢেউ , ঠিক এর আগেই করোনা কালে আবার বেড়িয়ে পড়েছিলাম অনেক দিন পর ।  এবার ডুয়ার্স এর বক্সা , জয়ন্তি , চিলাপাতা  । 

প্রথম দিন  (28/03/2021) :  

     আগের দিন আমরা বোলপুরে ট্রেন ধরে আজ আমরা নিউ কোচবিহার স্টেশনে ভোরবেলা নামলাম । এরপর আমরা অটো গাড়ী করে কোচবিহার রাজবাড়ী ও মদন মোহন মন্দির দেখেনিলাম । তারপর আমরা বাস ধরে সোজা জয়ন্তী চলেগেলাম । এই জয়ন্তী থেকে আমরা হুড খোলা জীপ গাড়ী করে ভূটান সীমান্তের ছোট মহাকাল মন্দির দেখলাম ।  এরপর পোখরি লেক দেখলাম । জনশ্রুতি এই লেকের জল সারাবছর একই রকম থাকে , এখানকার লোকেরা এই লেক পুণ্যস্থান বলে মানে । এই লেকে প্রচুর পরিমানে মাছ ও কচ্ছপ আছে । এখানে মুড়ি দিলে মাছ ও কচ্ছপ দেখা যায় । এরপর আমাদের আগের থেকে বুক করে রাখা রাজা ভাতখাওয়া বক্সা জঙ্গল রিসোর্ট এলাম , এটা WBFDC এর অন্তর্গত  । এখানে এসে আমারা লাঞ্চ করে বিশ্রাম নিলাম । বিকালে আমারা  একটু ঘোরা ঘুরি করে ডিনার করে ঘুমিয়ে পড়লাম ।

 দ্বিতীয় দিন (29/03/2021)  : 

  আজ সকালে আমাদের প্রথম সাফারি বুক করা ছিল । চুনিয়া সাফারি । ভোর ছয় টার সময় আমাদের সাফারি শুরু হল ।  আমাদের আজকের সাফারি তে হাতি , বন মুরগী , বিভিন্ন রকম হরিণ , ময়ুর ইত্যাদি দেখলাম । এই সাফারি আমাদের মন ভরিয়ে দিল । ফেরার পথে রাজাভাতখাওয়া মিউজিয়াম দেখলাম। ব্রেকফাস্ট করে Butterfly Conservatory , Rajbhatkhwa , Box Tiger Reserve  দেখতে গেলাম , অনেক রঙ বেরং এর প্রজাপতি দেখলাম ।   এরপর আমরা বাড়ী ফিরে স্নান খাওয়া করলাম ।  এর পর বিকালে আমরা অপূর্ব  সুন্দর  সিকিয়া ঝোড়া ঘুরে দেখলাম ।  যাওয়া আসার পথে অনেক চা বাগান দেখলাম । সন্ধ্যাবেলায় একটু স্থানীয় বাজার হাট ঘুরে দেখলাম । এর পর ডিনার করে ঘুমিয়ে পড়লাম ।

 তৃতীয় দিন (30/03/2021)

   আজ  আমরা দুটি সাফারি করি । প্রথমে সকালে রাজাভাতখাওয়ার কোর সাফারি করি । এখানে বন মুরগী , বিভিন্ন রকম হরিণ , ময়ুর, বাইসন , সাম্বার  ইত্যাদি দেখলাম । আর দেখলাম অপূর্ব সুন্দর বনভূমি । এরপর রিসোর্ট  এ ফিরে আমরা গাড়ী করে চিলাপাতা চলেগেলাম । প্রথমে একটা হোটেলে লাঞ্চ এর অর্ডার দিয়ে ,  আশপাশটা একটা টোটো  করে ঘুরে দেখলাম । ফিরে লাঞ্চ করলাম ।  এরপর আমার আজকের দ্বিতীয় সাফারি করলাম চিলাপাতাই । এখানে আমরা হাতি , বন মুরগী , বিভিন্ন রকম হরিণ , ময়ুর, বাইসন , সাম্বার  ইত্যাদি দেখলাম  বনভুমির ভিতর ।   ফিরে আমরা গাড়ী করে নিউ আলিপুরদুয়ার স্টেশন  চলেগেলাম ।    ওখান  থেকে  আমরা ট্রেন ধরে বোলপুর ফিরে এলাম ।                  


আপনাদের মুল্যবান মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকলাম ।

Labels: , , ,

Friday, 5 February 2021

Ajodhya Purulia

 অযোধ্যা পাহাড় পুরুলিয়া

শুভাশিস দত্ত

 Email: sduttamail@gmail.com
 Mobile & Whasapp : 9434110862

© SUBHASIS DUTTA


     আবার বেড়িয়ে পড়লাম অনেক দিন পর ।  এবার পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় । 

প্রথম দিন (30/01/2021) :  

     আজ আমরা  অফিস কলিগ ও অন্যান্য কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে মোট পঁচিশ জন   সকাল সকাল বোলপুর থেকে গাড়ী করে অয্যোধ্যা পাহাড়ের  উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়লাম । ইলামবাজার , দুর্গাপুর , রানিগঞ্জ , রঘুনাথপুর, পুরুলিয়া পেরিয়ে অযোধ্যা পাহাড়  পৌঁছালাম সন্ধ্যার সময় ।  যাবার সময় প্রথমে গড় পঞ্চকোট দেখে নিলাম । যাবার পথে পুরুলিয়ায় লাঞ্চ করলাম । এরপর ঠিক সূর্যাস্ত এর আগে আমরা ময়ুর পাহাড়ে পৌঁছালাম । এখানে পাহাড়ের উপর থেকে অপূর্ব সূর্যাস্ত  দেখলাম । তারপর আমরা অযোধ্যা হিলটপ এ অবস্থিত   বীরসা মুন্ডা লজে  ( মুঠোফোন - 7679871435 / 9002462589 )   উঠলাম । এই হোটেলটি আমাদের আগের থেকেই সংরক্ষন করা ছিল। হোটেলটি খুবই সুন্দর এবং বাজেট ফ্রেন্ডলি । এখানে  ১০০০ -১২০০ টাকায় ডবল বেড রুম ও  ১৫০০-১৮০০ টাকায় কটেজ পাওয়া যায় । এনাদের ব্যবহার অত্যন্ত ভাল ।  আমাদের উপরি পাওনা হল  সামনের মাঠে সন্ধ্যা বেলায় ছৌ নাচ। কিছু কেনাকাটা ও সান্ধ্যকালিন চা - জলখাবার খেয়ে হোটেলে ফিরে এলাম ।  হোটেলেই আমাদের ডিনারের ব্যবস্থা করা ছিল । মেনু দেশী চিকেন , শব্জি , রুটি /ভাত ।  একটু বিস্রাম নিয়ে ডিনার করে ঘুমিয়ে পড়লাম।  পরেরদিন নুতন কিছু দেখার আশাই । 

 দ্বিতীয় দিন (31/01/2021) : 

  আজ সকালে উঠে আমরা প্রথমে চা পান করে আশপাসটা একটু ঘুরে নিলাম ।  পাহাড়ের অপূর্ব শোভা  কনকনে ঠাণ্ডা  মিঠে  রোদ খুবই ভাল লাগল । এর পর খুব কাছেই বেদান্ত বিদ্যালয় এর কাছে পরিত্যাক্ত চা বাগান দেখলাম । কয়েকটি মৃত প্রায় চা গাছ আছে শুধু । হোটেল থেকে আমাদের জন্য একজন গাইড এর ব্যাবস্থা করে দেওয়া হয় । মাত্র ৫০০ টাকার বিনিময়ে ।  এরপর আমরা মার্বেল লেক গেলাম । এটি একটি অপূর্ব সুন্দর জলাধার । পাথর কেটে কেটে এটি সৃষ্টি হয়েছে । এরপর আমরা বামনি জলপ্রপাত দেখতে গেলাম । এটা আমার সবচেয়ে সুন্দর লেগেছে । এটি দেখার জন্য আমাদের বেশ কিছু সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে হল । বলে রাখা ভাল যে এটি বেশ কস্ট কর । এরপর আমাদের গন্তব্য মুখোশ গ্রাম "চরিদা" । চরিদা গ্রামে প্রচুর পরিমানে মুখোশ তৈরী হয় । এখানে একটি মুখোশের মিউজিয়াম আছে । এখান থেকে আমরা বেশ কিছু মুখোশ কিনলাম । এর পর পাখি পাহাড় দেখলাম । এটিও খুব সুন্দর । এরপর আমরা সোনকুপী হোটেল এ আমরা লাঞ্চ করলাম । হোটেলের খাবার ও ব্যবস্থাপনা বেশ ভাল । এরপর গন্তব্য লহরিয়া ড্যাম । এই সুন্দর  ড্যাম দেখার পর আমাদের বড় গাড়ী এখানে পার্ক করে । ছোট গাড়ী ভাড়া করে দুই নৈসর্গিক ড্যাম লোয়ার ড্যাম ও আপার ড্যাম দেখলাম । এখানে গাড়ী প্রতি ভাড়া ৫০০ টাকা । এখানে  জল বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় । এই দুটি ড্যামে  মধ্যে চক্রাকারে লোয়ার ড্যাম থেকে পাম্প করে জল আপার ড্যামে তোলা হয় তারপর আপার ড্যাম থেকে টারবাইন এর  চাকা ঘুরিয়ে  জল লোয়ার ড্যাম এ নিয়ে আসা হয় । এরপর আমাদের ফেরার পালা । সান্ধ্যকালিন চা - জলখাবার খেয়ে আমরা বাড়ীর উদ্দেশে বেড়ীয়ে পড়লাম । এবার আমরা পুরুলিয়া , বাঁকুড়া , দুর্গাপুর , ইলামবাজার হয়ে  বোলপুর ফিরলাম । আসার সময় আমরা বাঁকুড়ার পুয়াবাগান এর একটি ধাবাতে ডিনার সেরেনিলাম । অবশেষে একটু রাত্রে বোলপুরের ফিরে এলাম কিছু সুন্দর স্মৃতি নিয়ে। 

আপনাদের মুল্যবান মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকলাম ।

Labels: , , , , ,

Saturday, 21 November 2020

Mukutmanipur-Jilimili

 মুকুটমনিপুর -ঝিলিমিলি ভ্রমন

শুভাশিস দত্ত

 Email: sduttamail@gmail.com
 Mobile & Whasapp : 9434110862

© SUBHASIS DUTTA


     আবার বেড়িয়ে পড়লাম অনেক দিন পর ।  এবার বাঁকুড়ার মুকুটমনিপুর ও ঝিলিমিলি । 

প্রথম দিন (15/11/2020) : মুকুটমনিপুর । আজ আমরা সকাল সকাল বোলপুর থেকে নিজেদের গাড়ী করে মুকুটমনিপুরের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়লাম । ইলামবাজার , দুর্গাপুর , বাঁকুড়া , খাতড়া পেরিয়ে মুকুটমনিপুর পৌঁছালাম প্রায় বারোটার সময় । এখানে আমাদের যুব আবাস বা ইয়ুথ হোস্টেল সংরক্ষন করা ছিল। সেখানে ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ করলাম। তারপর  আমরা নৌকা ভ্রমন করে প্রথমে বনপুকুরিয়ায় হরিণ সংরক্ষন কেন্দ্র , উদ্দান কেন্দ্র দেখলাম। এখানে লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামুলক । তারপর কংসাবতী ও কুমারী নদীর মিলনস্থল , শিবমন্দির , ভিউ পয়েন্ট ও পার্ক দেখে নৌকা ভ্রমন শেষ হল । এরপর আমরা হোটেলের সামনে সুসজ্জিত স্থানে একটু ঘুরলাম । কিছু কেনাকাটা ও সান্ধ্যকালিন চা - জলখাবার খেলাম ।এরপর হোটেলে ফিরে এলাম । একটু বিস্রাম নিয়ে ডিনার করে ঘুমিয়ে পড়লাম।  পরেরদিন নুতন কিছু দেখার আশাই ।

 দ্বিতীয় দিন (16/11/2020) : ঝিলিমিলি  ।

  আজ আমরা  প্রাতরাশ করে বেরিয়ে পড়লাম ঝিলিমিলি এর উদ্দেশে । রাস্তাই অম্বিকানগরের ভগ্নপ্রায় রাজবাড়ী দেখলাম । এরপর রানিবাঁধ হয়ে ঝিলমিল এ পৌঁছালাম ।  এখানে আমরা   রিমিল হোটেলে থাকলাম । এখানকার আমাদের রুমটি ছিল গাছবাড়ী । সম্ভবত ডুয়ার্সের ধুপঝোড়ার অনুকরনে তৈরী । খুব সুন্দর । সেখানে ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ করলাম। তারপর  আমরা ঝিলিমিলি লেক কাঁকড়াঝোড় ড্যাম , পাহাড় ,সুতান , ছেঁদাপাথর ইত্যাদি ঘুরে দেখলাম । এগুলর কোনটা কোনটা ঝাড়গ্রাম জেলার মধ্যে পড়ে। আর কাঁকড়াঝোড় ড্যাম এর পাশে ঝাড়খন্ডের শিব মন্দির আছে । এরপর হোটেলে ফিরে এলাম । একটু বিস্রাম নিয়ে ডিনার করে ঘুমিয়ে পড়লাম। 


 তৃতীয় দিন (17/11/2020) : এ দিন আমাদের শেষ  সকাল , এ দিন আমরা আবার সকাল সকাল বেরিয়ে পড়লাম বোলপুরের উদ্দেশে  এবং ফিরে এলাম কিছু সুন্দর স্মৃতি নিয়ে।  

 

আপনাদের মুল্যবান মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকলাম । 

 

Labels: , , , , , ,